Header Ads

Header ADS

আবারো পদ্মাগর্ভে বিলীন হতে চলেছে মৈনট ঘাট। বাধই হতে পারে স্থায়ী সমাধান।


বিগত কয়েক বছরে ঢাকার দোহার উপজেলার মিনি কক্সবাজার খ্যাত মৈনট ঘাট হয়ে উঠেছিল একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র । কিন্তু ভাঙ্গনের কারণে সেই। পর্যটন কেন্দ্র এখন হুমকির মুখে।

সঙ্গে হুমকির মুখে পদ্মা পাড়ের মানুষগুলো। ভাঙ্গনে দুশ্চিন্তায় দিশেহারা তারা। সঙ্গে বিপাকে আছে মৈনট ঘাটের সঙ্গে জড়িত ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা। যাদের জীবন জীবিকা স্বপ্ন এই পদ্মাকে ঘিরে।

গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় মৈনট ঘাট যতদূর নদীগর্ভে চলে গেছে এ ভাবে চললে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অবশিষ্ট  যতটুকু আছে সেটুকুও পড়বে হুমকির মুখে।

তাই মৈনট ঘাটের চলমান ভাঙ্গন রোধ করতে বাঁধের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ভাঙ্গন রোধ করে বাঁচানো সম্ভব হাজারো মানুষের স্বপ্ন।

স্থানীয়দের দাবি, মেঘুলা ও বাহ্রা ঘাটের মত মৈনট ঘাটের অবশিষ্ট ৩ থেকে ৪ কি:মি: জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করলেই চলমান ভাঙ্গন রোধ করা সম্ভব। এতে হাজারো মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বনটুকু অন্তত রক্ষা পাবে।

একটা সময় উপজেলার কার্তিকপুর বাজার থেকে দক্ষিণ পাশের দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত জনপদ ছিলো। ছিলো ফসলের জমি, গ্রামের পর গ্রাম, ছিলো স্কুল, বাজার, মসজিদ ও কমিউনিটি ক্লিনিক।

গত বেশ কয়েক বছরে প্রমত্তা পদ্মার করাল গ্রাসে প্রায় তিন কিলোমিটার জনপথ বিলীন হয়ে গেছে পদ্মার অতল গহ্বরে। হাজারো মানুষ হারিয়েছে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল। নদী ভাঙ্গা মানুষগুলোর কেউ আশ্রয় নিয়েছে রাস্তার ধারে, কেউ পাড়ি জমিয়েছে শহরে বা অন্য কোনো জনপথের সন্ধানে।

ঠিকানাহীন এই অসহায় মানুষের বোবা আর্তনাদ কেবলমাত্র যার গিয়েছে সেই বুঝবে। মাত্র কয়েক বছর আগের কথা এই মানুষগুলোর সবই ছিলো। গোলা ভরা ধান, গোয়াল ভরা গরু , আর ছিল পদ্মার টাটকা ইলিশ। আজ তাদের কাছে সবই শুধু স্মৃতি।

ইতিমধ্যে দোহারের দুইটি ইউনিয়ন সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মৈনট ঘাটের চলমান ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে মানচিত্রে থেকে দোহার উপজেলাকে খুঁজে পাওয়া একসময় দুষ্কর হয়ে যাবে।

মৈনট ঘাট রক্ষায় বাঁধের দাবীতে স্থানীয় এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে, সামাজিক সংগঠন সে টুগেদার, এসডিপি ও সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীদের এর উদ্যোগে ২০১৯ সালে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু তাতে শুধুমাত্র আশার বাণী ছাড়া আর কিছুই মেলেনি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য জনাব সালমান এফ রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাঃ মানবাধিকার কমিশন এর ঢাকা দঃ এর সঃ সচিব ও দোহার সমাচার পত্রিকার সম্পাদক  হাজী নাছির উদ্দিন পল্লব   জানান, আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয় বাহ্রা ঘাট হতে অরঙ্গবাদ পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার ও  মেঘুলা থেকে নারিশা পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন। তার একটু সুদৃষ্টিই বাঁচাতে পারে হাজারো মানুষের স্বপ্ন সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র মৈনট ঘাট।

তিনি আরও বলেন, মৈনট ঘাটের ভাঙ্গন রোধে  ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ  নিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ফল পাইনি। তবে আমাদের দৃঢ়  বিশ্বাস মাননীয় এমপি মহোদয় হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় স্বপ্নের মৈনট ঘাটকে বাঁচাতে বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। মাননীয় এমপির কাছে এ অঞ্চলের সকল মানুষের এটাই প্রানের দাবী।

No comments

Powered by Blogger.